Banglarbhumi Warish Application – অনলাইনে আবেদন, ডকুমেন্ট, ফি ও স্ট্যাটাস (২০২৫ গাইড)
Banglarbhumi Warish Application হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন পরিষেবা। এর মাধ্যমে কোনো জমির মালিক মারা গেলে তার আইনগত উত্তরাধিকারীদের (Warish) নামে জমির রেকর্ডে পরিবর্তন আনা যায়।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে উত্তরাধিকারীরা জমি বিক্রি, ভাগ বা ব্যাংক ঋণের কাজে আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই সময়মতো Warish মিউটেশন করানো অত্যন্ত জরুরি।
Warish Application কী?
বাংলায় “ওয়ারিশ” মানে উত্তরাধিকারী। কোনো জমির মালিক মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা জমির মালিকানা দাবি করতে পারেন। এই দাবি আইনত বৈধ করতে হলে Banglarbhumi Warish Application জমা দিতে হয়।
👉 অন্যান্য ধরণের মিউটেশনের (যেমন ক্রয়, দান বা ভাগ) থেকে আলাদা, Warish মিউটেশন শুধুমাত্র উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা হস্তান্তরের জন্য করা হয়।
কারা Warish Application করতে পারবেন?
শুধুমাত্র বৈধ উত্তরাধিকারীরাই এই আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
- মৃত জমির মালিকের স্বামী বা স্ত্রী
- সন্তানরা (জৈবিক বা দত্তক নেওয়া)
- মা-বাবা, যদি সন্তান না থাকে
- আইন অনুযায়ী অন্য উত্তরাধিকারী, যদি নিকট আত্মীয় না থাকেন
👉 আবেদনকারীদের অবশ্যই এমন নথি দেখাতে হবে যা প্রমাণ করে যে তারা জমির মালিকের বৈধ উত্তরাধিকারী।
Warish Application-এর জন্য প্রয়োজনীয় নথি
অনলাইনে আবেদন করার আগে নীচের নথিগুলির স্ক্যান কপি প্রস্তুত রাখতে হবে:
- মৃত মালিকের ডেথ সার্টিফিকেট
- প্রতিটি উত্তরাধিকারীর পরিচয়পত্র (আধার, ভোটার আইডি, প্যান ইত্যাদি)
- ঠিকানার প্রমাণপত্র
- সম্পর্ক প্রমাণপত্র (জন্ম সনদ, বিবাহ সনদ ইত্যাদি)
- আইনগত উত্তরাধিকারী সার্টিফিকেট (অবশ্যই না হলেও প্রমাণ শক্তিশালী হয়)
- সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর
- প্রয়োজনে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের কাছ থেকে
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- সক্রিয় মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি
👉 টিপস: নথি স্পষ্টভাবে স্ক্যান করুন এবং ফাইল সাইজ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখুন।
ফি ও প্রসেসিং টাইম
- আবেদনের ফি: খুবই সামান্য এবং সরাসরি অনলাইনে জমা দেওয়া যায় (কার্ড/ইউপিআই/নেট ব্যাংকিং)।
- সময়সীমা: সাধারণত ৩০–৯০ দিনের মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি হয়।
- হিয়ারিং: অনেক ক্ষেত্রে শুনানি ডাকা হয় এবং আবেদনকারীকে আসল নথি সহ উপস্থিত থাকতে হয়।

অনলাইনে Warish Application করার ধাপসমূহ
- ভিজিট করুন: Banglarbhumi অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
- আপনার ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ও ক্যাপচা দিয়ে লগইন করুন। নতুন হলে আগে সাইন আপ করুন।
- মেনু থেকে যান Citizen Services → Online Application → Warish Application।
- জেলা, ব্লক ও মৌজা নির্বাচন করুন।
- জমির খতিয়ান নম্বর ও দাগ নম্বর লিখুন।
- প্রতিটি উত্তরাধিকারীর তথ্য দিন – নাম, বয়স, আধার নম্বর, সম্পর্ক ইত্যাদি।
- প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করুন।
- ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন।
- ফর্ম সাবমিট করুন। একটি অ্যাপ্লিকেশন নম্বর জেনারেট হবে।
👉 অবশ্যই রসিদ ডাউনলোড করে রাখুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর স্ট্যাটাস চেক ও হিয়ারিং
- অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দিয়ে অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখা যায়।
- যদি শুনানি হয়, তাহলে নোটিশ ডাউনলোড করা যাবে।
- নির্ধারিত দিনে LLRO অফিসে হাজির হতে হবে।
- নথি যাচাই শেষে Warish অর্ডার দেওয়া হয়।
- তারপর জমির ROR (খতিয়ান)-এ উত্তরাধিকারীদের নাম আপডেট হয়।
আবেদনের সাধারণ সমস্যাগুলি
অনেক আবেদন নীচের কারণে বাতিল হয়:
- অসম্পূর্ণ বা অস্পষ্ট নথি
- একাধিক উত্তরাধিকারীর নাম বাদ দেওয়া
- নথির নামের বানান মেলেনি
- শুনানিতে হাজির না হওয়া
- অন্যান্য উত্তরাধিকারীর NOC না দেওয়া
👉 সঠিক বানান, স্পষ্ট নথি এবং সময়মতো উপস্থিত থাকলে সমস্যা এড়ানো যায়।
Warish, Mutation ও Legal Heir Certificate – পার্থক্য
- Warish Application: উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা হস্তান্তরের জন্য
- Mutation Application: জমি কেনা-বেচা, দান বা ভাগের পরে মালিকানা পরিবর্তনের জন্য
- Legal Heir Certificate: সরকারি নথি যা মৃত ব্যক্তির সাথে উত্তরাধিকারীর সম্পর্ক প্রমাণ করে
বিশেষ কেস ও টিপস
- একাধিক উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
- নাবালক উত্তরাধিকারীর জন্য অভিভাবকের নাম দিতে হবে
- বিরোধপূর্ণ জমির ক্ষেত্রে আবেদন স্থগিত থাকতে পারে
- নাম বা বয়সের অমিল থাকলে অ্যাফিডেভিট দিতে হবে
সঠিকভাবে আবেদন করার চেকলিস্ট
✔️ নথি স্পষ্টভাবে স্ক্যান করুন
✔️ প্রতিটি নথির জন্য আলাদা পিডিএফ তৈরি করুন
✔️ নাম/ঠিকানার বানান সব জায়গায় একরকম রাখুন
✔️ খতিয়ান ও দাগ নম্বর আগে যাচাই করুন
অনুমোদনের পর কী করবেন?
আবেদন অনুমোদিত হলে:
- জমির খতিয়ানে উত্তরাধিকারীদের নাম যুক্ত হবে
- Know Your Property অপশনে গিয়ে নতুন রেকর্ড দেখা ও ডাউনলোড করা যাবে
ডেটা সিকিউরিটি
- কেবলমাত্র অফিসিয়াল Banglarbhumi পোর্টাল ব্যবহার করুন
- তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে তথ্য দেবেন না
- লগইন আইডি ও অ্যাপ্লিকেশন নম্বর গোপন রাখুন
সারসংক্ষেপ
Banglarbhumi Warish Application এর মাধ্যমে উত্তরাধিকারীরা সহজেই অনলাইনে জমির মালিকানা নিজেদের নামে রেজিস্টার করতে পারেন। প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে:
- নথি সংগ্রহ ও স্ক্যান করুন
- অনলাইনে আবেদন করুন
- ফি জমা দিন
- স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন ও শুনানিতে যান
- অনুমোদনের পর খতিয়ান ডাউনলোড করুন
FAQs – Banglarbhumi Warish Application
প্রশ্ন ১: Banglarbhumi Warish Application কী?
উত্তরাধিকারীদের নামে জমির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য একটি অনলাইন পরিষেবা।
প্রশ্ন ২: কারা আবেদন করতে পারবেন?
স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও অন্যান্য আইনগত উত্তরাধিকারী।
প্রশ্ন ৩: কী কী নথি লাগবে?
ডেথ সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, খতিয়ান, প্রয়োজনে Legal Heir Certificate।
প্রশ্ন ৪: অনলাইনে কিভাবে আবেদন করব?
লগইন → Citizen Services → Online Application → Warish → তথ্য পূরণ → নথি আপলোড → ফি জমা → সাবমিট।
প্রশ্ন ৫: আবেদন কত দিনে অনুমোদিত হয়?
সাধারণত ৩০–৯০ দিনের মধ্যে, শুনানি থাকলে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।